আজ শুক্রবার, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
 / মতামত / আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সংকট
আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সংকট
রায়হান আহমেদ তপাদার:
Published : Thursday, 3 April, 2025 at 1:38 PM
আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সংকটস্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তির আগে সামরিক শাসন ছিল বিশ্বরাজনীতিতে একটি অনিবার্য বাস্তবতা। স্নায়ুযুদ্ধোত্তর রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রবণতা অনেকটা কমে গেলেও তা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি। এখনো আফ্রো-এশিয়ার অনেক দেশেই সামরিক শাসনের উপস্থিতি লক্ষণীয়। সামরিক বাহিনী কোনো কোনো দেশে প্রত্যক্ষভাবে শাসন না করলেও পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। দুটো কারণে সামরিক বাহিনীর প্রভাব স্নায়ুুযুদ্ধকালীন অবস্থা থেকে দুর্বল হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পৃথিবীর প্রায় প্রতি প্রান্তে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে এবং উন্নয়নশীল বহু দেশের সামরিক বাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। প্রাচীনকালের বা মধ্যযুগের বা আধুনিককালের কর্তৃত্ববাদী শাসকদের মধ্যে মাত্রাগত পার্থক্য থাকলেও চরিত্রগত বা কার্যক্রমগত কোনো পার্থক্য এদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় না। কারণ কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসকই জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী নন।জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য অপরিহার্য বিভিন্ন উপাদান যেমন অবাধ, নিরপেক্ষ, মুক্ত ও স্বাধীন নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি বা সরকার বাছাই করা জনগণের অধিকার, জনগণের সব মৌলিক ও নাগরিক অধিকার ভোগ বা শান্তিপূর্ণ জমায়েত ও সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কাজের প্রতিবাদ করার অধিকার অস্বীকার বা সীমিত করা, মাইনোরিটির অধিকারের স্বীকৃতি ও তার নিশ্চয়তা দেয়া এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ, আইনের শাসন, বাক্স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা-এসব মৌলিক অধিকার কোনোকালে কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসকই স্বীকার করেননি। বরং কীভাবে জনগণকে শৃঙ্খলিত করে শাসকের নিয়ন্ত্রণে ও কর্তৃত্বে রাখা যায়, সে চেষ্টাই নিরন্তর করে থাকেন কর্তৃত্ববাদী শাসকরা।

আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সংকট দিন দিন ঘনীভূত ও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। এর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে একনায়কতন্ত্র বা স্বৈরাচারী সরকারকে অকুণ্ঠ অন্ধ সমর্থন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শোষণনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি কম দায়ী নয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জো বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণের সময় বলেছিলেন, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিশ্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সুসংহত করা। জার্মানির ব্যাটেলমান ফাউন্ডেশনের গবেষণার তথ্যানুসারে, বিশ্বে দুর্বল প্রশাসন ও গণতন্ত্রের সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া বৈষম্য ও নিপীড়ন বিশ্বব্যাপী বাজার অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলছে। বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্রের রোল মডেল দেশের সংখ্যা বিস্ময়কর ভাবে কমে যাচ্ছে। ক্ষীণ হয়ে আসছে গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়াস। যুক্তরাষ্ট্রের মারটিনবিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একদল গবেষকের মতে, শাসকগণের অসততা ও জনগণের প্রতি নিপীড়নমূলক মনোভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের চর্চা পরাভূত হচ্ছে। প্রকৃত গণতন্ত্র ছাড়া সবার জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায় না। সে কারণেই কেউ কেউ কমিউনিস্ট ব্যবস্থা সমর্থন করেননি। আসলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হবে বহু দল ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা এবং অপরিহার্য বিরোধী দলের সমালোচনা। যেকোনো রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি শুধু আমলা শ্রেণিকেই কলুষিত করে না, সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্র এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়। অথচ স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন পুলিশ বিভাগ ইত্যাদি রাষ্ট্রের ভারসাম্য সৃষ্টির জন্য অপরিহার্য। ফলে বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিশ্ব গণতন্ত্র অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শাসকদের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর ভারতের দুটি অংশে অর্থাৎ পাকিস্তান ও ভারতে জনগণের এমন আগ্রহের প্রতি নেতৃত্বের বিবেচনায় স্বাতন্ত্র্য পরিলক্ষিত হয়।

ভারতের নেহরু-গান্ধীর বিপরীতে পাকিস্তানের জিন্নাহ-লিয়াকতরা তখন নতুনভাবে উপনিবেশ তৈরির কাজে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করে। বাংলাদেশের জন্মের পর নবগঠিত এ রাষ্ট্রেই গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটে এবং একদলীয় বাকশালের জন্ম হয়। পরবর্তীকালে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা ত্বরান্বিত হলেও জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের কিছু দিন পরে ১৯৮২ সালে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে বন্দুকের নলের আগায় ক্ষমতা দখল করে সামরিক আইন জারি করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তারপর দীর্ঘদিন গণতন্ত্র হিমঘরে বিশ্রাম নেয়। পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়। সে আন্দোলনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ ডান-বাম সব দল যুগপৎ আন্দোলনের ফলে শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ঘটে। বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মদকে কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান করে একটি সরকার কায়েম হলে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার বিএনপির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি স্বপদে ফিরে যান। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন একপর্যায়ে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর, কেয়ারটেকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত করে। তারপর কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে পরপর আরও তিনটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হয়। কিন্তু ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আদালতের সহযোগিতায় কেয়ারটেকার পদ্ধতি বাতিল করা হলে পুনরায় একদলীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এরপর আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ বছর পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। জনগণের প্রত্যাশা, হয়তো একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। 

কিন্তু সেখানেও চলছে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের তেলেসমাতি। দেশব্যাপী নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্যে সেনাপ্রধান একটি আলোচনা সভায় দেশবাসীর প্রতি একটি সতর্কতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করেছেন, যা প্রশংসনীয়। তিনি বলেছেন, ‘দেশবাসীর ঐক্যের পরিবর্তে চলছে পরস্পরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ি ও নৈরাজ্য। এটি যদি বন্ধ করতে না পারেন, তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।’ উল্লেখ্য, অতীতে প্রায় সব শাসক গণতন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করেছে। ওই স্বৈরাচারীরা বরাবরই গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে। তাহলে বোঝা গেল, শুধু স্বৈরাচারীরা নয়, গণতন্ত্রের নামে অনেকেই গণতন্ত্রকে হত্যা করে স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের কথা কারও অজানা নয়। ওই নির্বাচনে ভোটার না থাকলেও ভোটের সমাহার ছিল। ভোটারবিহীন এত ভোট কোথা থেকে এলো, তা ছিল বিশ্বব্যাপী প্রশ্ন। ১৫৪ আসনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আ.লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে যায়। নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ না থাকলেও সরকার গঠনের সময় উৎসবের শেষ ছিল না। নতুন একখানা বিরোধী দল গঠন করা হয়েছিল। পোষা প্রাণীর মতো বিরোধী দল।ওই বিরোধী দলের কোনো ভূমিকা জনগণের চর্ম চোখে ধরা পড়েনি। মনে হয়েছে, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের এটি একটি নতুন সৃজনশীল পদ্ধতি! ২০১৮ এবং ২০২৪-এর নির্বাচন নিয়ে জনগণই বিশ্লেষণ করবেন যে, গণতন্ত্রের আসল গন্তব্য কোথায়! রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের আগ্রহের প্রতি কীভাবে সাড়া দিচ্ছে তা উপলব্ধির যোগ্য নয়। গুম, খুন, আয়নাঘরের কাহিনি আর বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। তবুও শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। আর সংস্কারের কথা বলছেন? ক্ষমতায় বসার জন্য কোনো কোনো দল মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা সংস্কারকে ভালোভাবে নিচ্ছে না।

মনে রাখতেই হবে, সব দল ও প্রতিষ্ঠানই জনগণের পর্যবেক্ষণের অধীন রয়েছে। ইতিহাস কাউকে কখনো ক্ষমা করে না। অপরাধ করলে সবাইকে একদিন আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। নির্বাচন কমিশন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো। কিন্তু তারা স্বৈরাচারের তাঁবেদারি করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে গ্রহণ করেছে ঠিকই, কিন্তু গণতন্ত্র চর্চায় সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আসলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের গন্তব্য কোথায় এটিই এখন জনগণের প্রশ্ন। ১৮৬১ সালকে সংসদীয় গণতন্ত্রের শুরু ধরলে প্রায় ১৬৪ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনো অনিশ্চয়তার সমুদ্রে। কিছুদিন আগেও সংসদ লুটেরা, মূর্খ, অসৎ ব্যবসায়ী ও ধনিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষা করে চলার সংস্কৃতিতে নিমজ্জিত ছিল। কোনো কোনো ব্যবসায়ী জোর গলায় বলে বেড়ান, এমপি আমাকে হতেই হবে।তার মানে টাকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সাধ জাগে এবং জনগণের সেবার পরিবর্তে তারা শোষণ করে।আমাদের দেশে প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থার নেতৃত্বে কোনো গণতন্ত্র নেই, ক্ষমতাই যেন নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য। তারপর লুটপাট আর অর্থ পাচার। ফলে নাগরিকদের সত্যিকার গণতন্ত্র উপেক্ষিত থেকেই যাচ্ছে। রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের বুলি আওড়ায়, আবার নিজেরাই সন্ত্রাসের গডফাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। আইন বিভাগ বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে আইন প্রণয়ন করে। শাসন বিভাগ নিজেকে রক্ষা করতে কৌশলে তা প্রয়োগ করে। কোনো কোনো দল স্বাধীনতা আনয়ন ও রাষ্ট্রের জন্মের ভূমিকায় বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়ে মুখে ফেনা তুলে বেড়ায়; কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সংস্কারের লক্ষ্যে যেসব পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন কিছুটা দেরিতে সম্পন্ন হলেও দেশ আগামীতে একটি সুন্দর ও টেকসই গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাবে বলে জনগণের বিশ্বাস।

সুতরাং গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত ও পুনরুদ্ধারে অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক সব কর্মকাণ্ডে সাড়া দেওয়া রাজনৈতিক দল ও জনগণের নৈতিক দায়িত্ব। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার যে সংস্কারের পথে এগুচ্ছে, তাতে দেশের গণতন্ত্র নতুন গন্তব্যে পৌঁছে যাবে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। অন্যথায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হবে। দীর্ঘকাল দেশের ভেতরে ও বাইরে গণতন্ত্রের পরিচর্যা নেই। ফলে যেসব ভূখণ্ডে গণতন্ত্রের ফুল ফুটেছিল, সেখানে আগাছা জন্মেছে, জঙ্গল এসে ফুলের বাগানে ঢুকে পড়েছে। তাই অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুদিক থেকে গণতন্ত্র চাপের মধ্যে পড়েছে। ব্রাজিল, ভারত, আফ্রিকার দেশগুলো অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ ও সংকীর্ণতায় আটকে যায়। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং তাদের মিত্র রাষ্ট্রগুলো স্বার্থনির্ভর হিসাব-নিকাশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে যে ভূমিকা পালন করেছে, তাতে শতভাগ সততা ছিল না। রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের অত্যন্ত খারাপ সম্পর্ক ছিল। তুরস্কের অভ্যুত্থান থেকে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বেঁচে যাওয়ার পর রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের ভাটা পড়ে। প্রকৃত অর্থে পশ্চিমা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে কর্তৃত্ববাদী ঐক্যের সৃষ্টি হয়। ব্রেক্সিটের পর চীন সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র পিপলস ডেইলির মন্তব্য হচ্ছে, এটা পশ্চিমা গণতন্ত্রের মৌলিক ভুলের ফসল। পরাশক্তি আমেরিকা গণতান্ত্রিক শাসনে বর্ণবাদ ও অসহিষ্ণুতা, সামাজিক জটিল সমস্যা নিরসনে ব্যর্থ। দ্য গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, পশ্চিমের সন্ত্রাসী হামলাগুলো আসলে গণতন্ত্র ধসে পড়ার ইঙ্গিত। এ বিষয়ে রবার্ট কেগান লিখেছেন, মানবসভ্যতার শাসনের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক শাসনের চেয়ে কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনের ইতিহাসই দীর্ঘ।

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক 


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


 
মেসে থাকা উপদেষ্টারা চড়েন ৬ কোটির গাড়িতে, পরেন ৪০ লাখের ঘড়ি: বরকত উল্লাহ বুলু
মেসে থাকা উপদেষ্টারা চড়েন ৬ কোটির গাড়িতে, পরেন ৪০ লাখের ঘড়ি: বরকত উল্লাহ বুলু
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার মলিন চেহারা এখন রসালো হয়ে গেছে। তারা আগে হলে-মেসে থাকলেও ...
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যে অবস্থানে
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যে অবস্থানে
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও মার্কিন শিল্প সুরক্ষা দিতে শতাধিক দেশের ওপর প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ...
নৈশভোজের টেবিলে পাশাপাশি ড. ইউনূস-নরেন্দ্র মোদি
নৈশভোজের টেবিলে পাশাপাশি ড. ইউনূস-নরেন্দ্র মোদি
বিমসটেক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ...
মার্কিন শুল্ক, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কতটুকু প্রভাব পড়বে
মার্কিন শুল্ক, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কতটুকু প্রভাব পড়বে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, এর প্রভাব নিয়ে ঢাকায় চলছে নানা ...
পল্লবীর বাউনিয়াবাধে পারিবারিক সংঘাতে গোলাগুলি
পল্লবীর বাউনিয়াবাধে পারিবারিক সংঘাতে গোলাগুলি
রাজধানীর পল্লবীতে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে সংঘাত এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধা ...
সিলেটে নাদেলের নামে স্লোগান দিয়ে ছাত্রলীগের মিছিল: পুলিশী অভিযান অব্যাহত
সিলেটে নাদেলের নামে স্লোগান দিয়ে ছাত্রলীগের মিছিল: পুলিশী অভিযান অব্যাহত
সিলেট শহরে  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের  সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এর নাম ব্যবহার করে স্লোগান ...
সাতক্ষীরার আশাশুনির ভাঙন পয়েন্টে বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি, অব্যহত রয়েছে পানি ঢোকা
সাতক্ষীরার আশাশুনির ভাঙন পয়েন্টে বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি, অব্যহত রয়েছে পানি ঢোকা
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবে) বেড়িবাঁধের ভাঙন পয়েন্ট দিয়ে এখনো জোয়ারের পানি ঢোকা অব্যহত রয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ ...
মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গড়তে খেলাধুলার বিকল্প নেই : চন্দন
মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গড়তে খেলাধুলার বিকল্প নেই : চন্দন
বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন বলেছেন, দেশে মাদক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। তরুণ ...
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভোটমারী প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের শুভ উদ্বোধন
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভোটমারী প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের শুভ উদ্বোধন
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারীতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভোটমারী প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে'র শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।ভোটমারী ক্রিকেট কাউন্সিল এর আয়োজনে ...
১০
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের গচ্ছিত টাকা আ.লীগ লুটপাট করে খেয়েছে : খায়ের ভূঁইয়া
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের গচ্ছিত টাকা আ.লীগ লুটপাট করে খেয়েছে : খায়ের ভূঁইয়া
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ সারাদেশ লুটপাট করে খেয়েছে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের গচ্ছিত টাকাও তারা লুটপাট ...
 
কুলাউড়াপৌর শ্রমিক দলের ইফতার মাহফিল
কুলাউড়াপৌর শ্রমিক দলের ইফতার মাহফিল
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শ্রমিক দলের উদ্যোগে আলোচনাসভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি পার্টি সেন্টারে  এ ইফতার মাহফিল ...
কালীগঞ্জে ৯৮'র ব্যাচের উদ্যোগে প্রীতি ফুটবল অনুষ্ঠিত
কালীগঞ্জে ৯৮'র ব্যাচের উদ্যোগে প্রীতি ফুটবল অনুষ্ঠিত
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক আবেগঘন প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর প্রিয় বন্ধু ও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে ...
মোবাইল ব্যাংকিং: বিকাশ নগদ রকেটে জমা উত্তোলনের সীমা বাড়ল
মোবাইল ব্যাংকিং: বিকাশ নগদ রকেটে জমা উত্তোলনের সীমা বাড়ল
বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইলে আর্থিক সেবায় (এমএফএস) দৈনিক ও মাসিক লেনদেন অর্থাত্ জমা-উত্তোলনের (ক্যাশ ইন-ক্যাশ আউট) সীমা বাড়িয়েছে ...
রহিমা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও মিলন সভা ২০২৫ অনুষ্ঠিত
রহিমা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও মিলন সভা ২০২৫ অনুষ্ঠিত
শিকড়ের টানে শিকড়ে ফেরা প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে মানবিক উদ্যোগ রহিমা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শুক্রবার হাবেলী গোপালপুরস্থ খান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত হয় ইফতার ...
ঈদ কবে, জানা যাবে রোববার
ঈদ কবে, জানা যাবে রোববার
পবিত্র ঈদুল ফিতর সোমবার নাকি মঙ্গলবার উদযাপিত হবে তা জানা যাবে আগামীকাল রোববার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায়। ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে ...
হোয়াটসঅ্যাপে ছবি শেয়ার করা যাবে আরও সহজে
হোয়াটসঅ্যাপে ছবি শেয়ার করা যাবে আরও সহজে
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় নানান ফিচার যুক্ত করেছে প্ল্যাটফর্মটি। জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপে যোগ হতে চলেছে মোশন ফটো ফিচার।অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই ফিচার ...
দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন: যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গারা
দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন: যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গারা
মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে জোরপূর্বক যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী উভয় পক্ষই রোহিঙ্গা যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধে ...
৮ লাখ টাকা ছিনতাই, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা বহিষ্কার
৮ লাখ টাকা ছিনতাই, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা বহিষ্কার
পটুয়াখালীর বাউফলে ৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় ...
সিডনিতে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস ইন্ক, অস্ট্রেলিয়া এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
সিডনিতে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস ইন্ক, অস্ট্রেলিয়া এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অফ নিউ সাউথ ওয়েলস ইনক অস্ট্রেলিয়া এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় গত ...
১০
ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী উঠাচ্ছে রেলওয়ে নিজেই!
ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী উঠাচ্ছে রেলওয়ে নিজেই!
আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে আসন নির্ধারিত থাকে। নিয়ম না থাকলেও যাত্রীদের অনুরোধের কথা বলে নির্ধারিত আসনগুলোর মধ্যে শোভন ও সুলভ শ্রেণির আসনের ...
সম্পাদক ও প্রকাশক: ইউসুফ আহমেদ (তুহিন)
প্রকাশক কর্তৃক ৭৯/বি, ব্লক বি, এভিনিউ ১, সেকশান ১২, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬ থেকে প্রকাশিত ও ৫২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, ঢাকা ১১০০ থেকে মুদ্রিত
বার্তাকক্ষ : +৮৮০১৯১৫৭৮৪২৬৪, ই-মেইল editor@natun-barta.com, Web : www.Natun-Barta.com.com