![]() ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের: রপ্তানি, বিনিয়োগ ও অর্থনীতি ক্ষতির মধ্যে পড়ার শঙ্কা
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
![]() তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এর ফলে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পোশাক খাতে বাংলাদেশের যারা প্রতিযোগী দেশ, বিশেষ করে প্রধান প্রতিযোগী ভারত। ভারতের ওপর যে পরিমাণ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম। সুতরাং পোশাকের পরবর্তী অর্ডারগুলো অল্প সময়ের জন্য হলেও ভারতে যাবে। যদি ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্তে পরিবর্তন না আনে, তাহলে বাংলাদেশের অর্ডারগুলো ভারতে যাবে। তিনি বলেন, চীন থেকে বড় বিনিয়োগের আশা করেছিলাম। এখন দেখা যাচ্ছে আমেরিকার বাজারে চীনের শুল্কহার কম বাংলাদেশের তুলনায়। চীন থেকে বড় বিনিয়োগ নাও আসতে পারে। এতদিন বলা হয়েছে, মেড ইন বাংলাদেশ হলে আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত শুল্কের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সংকুচিত হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে যে বিনিয়োগ বাংলাদেশে হয়েছে, সেগুলো হয়তো বাংলাদেশে আর নাও থাকতে পারে। বাণিজ্য, রপ্তানি ও বিনিয়োগ তিন খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের সামনে সুযোগ আছে জানিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিক্ষীয় কাঠামোগত বাণিজ্যিক চুক্তি বা টিকফা আছে। এর মাধ্যমে সরকার আলাপ-আলোচনা শুরু করতে পারে। কিন্তু শুল্ক বসিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর থেকে সিদ্ধান্তটি হয়নি। সিদ্ধান্ত হয়েছে হোয়াইট হাউজ, যেটি বাস্তবায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর। আমাদের দুটো জায়গায় কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কাজ করতে হবে। তাদের সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে। পাশাপাশি এনবিআরকে কিছু জিনিস রিভিউ করতে হবে। আমেরিকায় রপ্তানির ক্ষেত্রে কত শতাংশ শুল্ক আছে। আমাদেশ শুল্কহার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। এর ওপর নানান কর থাকে। ওই করগুলো কীভাবে কমানো যায়, তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এনবিআরকে ট্যারিফ কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, বাড়তি শুল্কহারের কথা শুনে অনেকেই আতঙ্কিত হতে পারে। বিশেষ করে পোশাক ব্যবসায়ী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তারা উদ্বেগের মধ্যে পড়ে যাবে, শুল্ক তারতম্যের কারণে অন্য দেশে হয়তো আরও বেশি সুযোগ অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে হন্ডুরাস, মিসর ও তুরস্ক। এই দেশগুলোর ওপর ওইভাবে বড় শুল্ক নেই। এটা তাদের জন্য বড় সুবিধা। বিনিয়োগকারীরা ওইসব দেশে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এত বেশি শুল্ক আরোপ করলে বড় সমস্যা হবে। তৈরি পোশাক রপ্তানি ও অন্য পণ্য রপ্তানি কমে গেলে সেটা বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। এমনিতেই দেশের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তার মধ্যে এ ঘটনা ঘটলো। আমাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যোগ করেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে। |