আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন!      হবিগঞ্জ ২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আহমদ আলী মুকিব      অছাত্র ও চিহ্নিত শিবির কর্মীকে ছাত্রলীগের সভাপতি করার প্রতিবাদে ১১ ছাত্রলীগ নেতার পদত্যাগ       রাখাইনের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা পানি আর ঘাস খেয়ে বেঁচে আছে: রয়টার্স      উখিয়া ও টেকনাফে সুপারি বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে হাসি      দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) মাঠ গরমে ব্যস্ত নতুনরা      কুমিল্লায় মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে ৫ পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ      
৫ দিনে গ্রেফতার জেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা
সাতক্ষীরায় চরম আতংকে বিরোধী নেতা-কর্মি:বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১, আহত ৬
বন্দুক যুদ্ধের মধ্যেও বৃদ্ধি পেয়েছে ডাকাতির ঘটনা
Published : Monday, 18 July, 2016 at 11:14 PM, Count : 1086
সাতক্ষীরায় চরম আতংকে বিরোধী নেতা-কর্মি:বন্দুকযুদ্ধে  নিহত ১, আহত ৬ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় এক সপ্তাহে  টানা চার দিনে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় এক জন নিহতসহ ছয় দুর্বৃত্ত আহত হয়েছে। মাদক কারবারিসহ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী দমনে একের পর এক বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটলেও থেমে নেই অপরাধীরা। গত পাঁচ দিনের ব্যবধানে জেলার দুই স্থানে দূর্ধর্ষ দস্যুতার ঘটনাও ঘটেছে। মুখোশধারী দুর্বত্তরা গভীররাতে ঝাউডাঙ্গার ওয়ারিয়া গ্রামে তান্ডব চালিয়ে পাঁচ ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করেছে বলেও এলাকাবাসির দাবি। আকস্মিকভাবে বন্দুক যুদ্ধে হতাহতসহ অপরাধ মূলক কর্মকান্ড ঘটতে থাকায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।
গত ৯ জুলাই দিবাগত রাত থেকে গত ১২ জুলাই দিবাগত রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্নস্থানে সন্ত্রাসীদের সাথে বন্দুক যুদ্ধের এসব ঘটনা ঘটে। আর ১১, ১৩ ও ১৫ তারিখ দিবাগত রাতে সদর উপজেলার বাকাল শেখ পাড়ায়, শ্যামনগর উপজেলার পার্শ্বেমারী গ্রামে ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে কুমিরা মহিলা কলেজের শিক্ষক আব্দুল হামিদের বাড়ীতে ডাকাতি সংঘঠিত হয়।  
বন্দুক যুদ্ধ নিয়ে পুলিশের দাবি নিয়মিত টহল ও বিভিন্ন অভিযান পরিচালনাকালে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে আক্রমন করে গুলি ও বোমা ছুড়ে পালানোর চেষ্টাকালে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। তবে হতাহতের পরিবার বলছে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পুলিশ প্রভাবিত হয়ে বা আতংক সৃষ্টি করতে ধরে নিয়ে গুলি চালিয়ে বন্দুক যুদ্ধের প্রচার দিচ্ছে। অপরদিকে পুলিশের দাবি জঙ্গী তৎপরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দমনসহ জেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। 
সম্প্রতি সাতক্ষীরায় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা বৃদ্ধি ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চিন্তিত জেলার সচেতন মহল। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে পুলিশের দেয়া বক্তব্য নাকচ করে ভিন্নমত পোষন করলেও এ সব বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কোন ঝামেলায় না পড়ে যে যার মতো নিরাপদে থাকাটাই তাদের কাছে চলমান সময়ের জরুরী দাবি বলে মনে করছেন এ সব ব্যাক্তিরা। এমনকি গত মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম ও পৌর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হবিকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও এ ঘটনা নিয়ে জেলা বা উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়নি। সব মিলিয়ে জেলার বিরোধী নেতা কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে এক অজানা আতংকের ছায়া।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের তথ্যানুযায়ী গত রবিবার ভোর রাতে পুলিশের সংকেত অমান্য করে তাদের উপর বোমা হামলা চালিয়ে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অলিউল্লাহ (৪৩)। তিনি ঢাকায় শ্রমিকদের সরদার হিসাবে কাজ করতেন। নিহতের পরিবার জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় অলিউল্লাহ ঢাকায় যাওয়ার পথে পুলিশ তাকে পরিবহন কাউন্টার থেকে ধরে নিয়ে মুখের মধ্যে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। তবে পুলিশের দাবি তিনি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন চালাতেন। তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩ টি মামলা ছিলো।
গত রবিবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর হাজিরবেড়ের আব্দুল গফুরের আম বাগানে পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে কথিত বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে।  
এ সময় সাতক্ষীরা শহরের মধুমোল্লরডাঙির মফিজুল সরদারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২০) গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ দাবি করে সে মাদক ব্যবসায়ী ছিলো। মাদক বেচা কেনার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বোমা হামলা চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি বর্ষন করলে সে গুলিবিদ্ধ হয়।
অপর দিকে  আহত যুবকের মা খোদেজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে আগের দিন রবিবার রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন একটি মোটর গ্যারেজের পাশের একটি এলাকা থেকে পুলিশ আটক করে। পরে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে পুলিশ জাহাঙ্গীরের ডান পায়ের হাঁটুর নীচে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে গুলি করে।
গত সোমবার দিবাগত মাঝরাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাজুয়ারডাঙা ব্রীজ ও দেবহাটা উপজেলার পুষ্পকাটি বিসমিলাহ ব্রিকস ফিল্ডের পাশে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় সাতক্ষীরা পৌর এলাকার মধুমোলারডাঙ্গির নারায়ন সরকারের ছেলে ট্রাক হেলপার বিশ্বজিত সরকার (২৩) ও দেবহাটার বালিয়াডাঙ্গার আমিনুল মোল্লার ছেলে মাছ ব্যবসায়ি মোঃ নুরুজ্জামান (২৪) গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের দাবি তারা দুজনেই ছিলেন মাদক ব্যবাসায়ী।
বন্দুকযুদ্ধের শিকার বিশ্বজিতের স্ত্রী মাধবী রানী সরকার জানান, তার স্বামী গাড়ির খালাসী (হেলপার) হিসাবে কাজ করেন। গত রবিাবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাতক্ষীরা বাসটার্মিনাল সংলগ্ন ফিলিং স্টেশনে গাড়িতে পেট্রোল নেয়ার জন্য যান। গাড়ি থেকে নামা মাত্র সাদা পোশাকের একদল গোয়েন্দা পুলিশ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক জনের ইশারায় বিশ্বজিতের হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নিয়ে যায়। গত মঙ্গলবার রাতের কোন এক সময় পুলিশ তার স্বামীকে গুলি করে। পরে বন্দুক যুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হয়রানী করার জন্য তার নামে মামলা দায়ের করে।
একই সময় গুলিতে আহত নুরুজ্জামানের বাবা আনিনুল মোল্যা জানান, তার ছেলে খুলনা রোড মোড়ের ফল ব্যবসায়ী। সাবই তাকে চেনে। পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করে বন্দুক যুদ্ধের মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে। তিনি দাবি করে বলেন, তার ছেলের নামে কোন মামলা না থাকলেও তাকে মাদক কারবারি হিসাবে নতুন করে মামলা দিয়েছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জেলার কলারোয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের সময় কাপড় ব্যবসায়ী উপজেলার মাদরা গ্রামের সুকুর সরদারের ছেলে মফিজুল ইসলাম (২৬) ও সদর উপজেলার ঘরচালা গ্রামের মৃত, শওকত আলী মোল্যার ছেলে রমজান মোলাা (৩৩) গুলিবিদ্ধ হয়। উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের একড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুলের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।  পুলিশের দাবি তারা অস্ত্র ব্যবসায়ি। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি অন্ত্র কেনা বেচার সময় পুলিশ তাদের ধরতে গেলে এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। 
এেিদক কাপড় ব্যবসায়ী মফিজুলের পরিবারের দাবি প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে তার ব্যবসা প্রতিষ্টান থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ মফিজুলকে তুলে নিয়ে যায়। রাতে তাকে গুলি করে অস্ত্র ব্যাবসায়ী হিসাবে প্রচার করে। রজমান আলীকে তার সহযোগী হিসাবে উল্লেখ করে দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়।
জেলায় হঠাৎ করে বন্দুক যুদ্ধের এসব ঘটনা কি বেড়ে গেল এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্র জানায়, বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা বাড়েনি।  সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করার সময় তারা যদি পুলিশকে আক্রমন করে তবে পুলিশও সরকারি সম্পদ রক্ষা ও নিজেদের জান বাঁচাতে পাল্টা আক্রমনে যাবে। বন্দুক যুদ্ধের এমন সব ঘটনায় কোন সন্ত্রাসী যদি হতাহত হয় তবে সেটা স্বাভাবিক। এছাড়া জঙ্গী, সন্ত্রাসী দমন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ সব সময়ই কঠোরতা দেখাবে। বিভিন্œ মামলার পলাতক আসামীদের আটক করার চেষ্টাকালে কেও কেও গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ বাধ্য হয়েই গুলি ছুড়ে নিজেদের রক্ষা করে।
এসব বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ডি আই-১ মিজানুর রহমান জানান, এখন জেলায় বিশেষ কোন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না। জঙ্গী, সন্ত্রাসীসহ দাগি আসামী আটক করার জন্য অভিযান চলছে। এটা জেলা পুলিশের চলমান প্রক্রিয়া। সম্পতি সাতক্ষীরায় পুলিশ বেশী তৎপর। বিভিন্ন সময় পুলিশের অভিযানিক দলের উপর আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীরা আকস্মিক আক্রমন করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশে সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিতে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীসহ পাঁচ/ ছয় জন সস্ত্রাসী হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে জেলার সার্বিক আইন শংঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে তিনি দাবি করেন।







জাতীয় পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইউসুফ আহমেদ (তুহিন)

৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : editor@natun-barta.com