![]() বিনামূল্যে ছাপানো সংবাদপত্র পড়ছেন বিশ্বের সাড়ে চার কোটি মানুষ
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
![]() যেসব পত্রিকা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়, সেগুলোর বেশিরভাগই স্থানীয় বা কমিউনিটি পত্রিকা। ডেইলি মেইলের সাময়িকী ‘মেট্রো’র মতো স্বনামধন্য পত্রিকাগুলোও রয়েছে এই তালিকায়। ইতিহাসে নজর ফেরালে দেখা যায়, বিনামূল্যে পত্রিকা দেওয়ার এই রেওয়াজ শুরু ১৮৮৫ সালে। জার্মানিতে জেনারেল অ্যাংজে লুবেক উন উমগেবাং নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার্লস কোলম্যান ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা। সপ্তাহে দুইবার প্রকাশিত এই পত্রিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হতো গ্রাহকদের হাতে। দুই বছরের মাথায় ১৮৮৭ সালে এসে এর সার্কুলেশন দাঁড়ায় পাঁচ হাজার। আর ১৮৯০ সালে ১২ হাজার মানুষ বিনামূল্যে এই পত্রিকা পড়তে থাকে। জার্মানির পর ১৯০৬ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে বের হয় ম্যানলি ডেইলি নামে আরেকটি ফ্রি পত্রিকা। এখনও এটি বিনামূল্যে দেওয়া হয়। মিডিয়া মুঘল রুপার্ট মারডকের নিউজ লিমিটেড পত্রিকাটির স্বত্ব কিনে ফেললেও এখনও বিনামূল্যেই বিতরণ করা হয় পত্রিকাটি। ১৯৪০ সালে মার্কিন নাগরিকদের হাতে বিনামূল্যে পত্রিকা আসতে শুরু করে। ১৯৮৪ সালে যুক্তরাজ্যে শুরু হয় বিনামূল্যে পত্রিকা বিতরণ। বার্মিংহ্যাম ডেইলি নিউজ নামে একটি পত্রিকা বিনামূল্যে বিতরণ শুরু হয় সেবছর। দেশটির ৩ লাখ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হতো পত্রিকাটি। সেসময় টাকা দিয়ে কেনা কিছু পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায় কিংবা বিনামূল্যে বিতরণ শুরু হয়। ১০ বছরের মধ্যেই প্রায় সবগুলো ইউরোপীয় দেশে এই পত্রিকার প্রচলন ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ৫৮টি দেশের অনেক জায়গায় বিনামূল্যে পত্রিকা দেওয়া হতো। ২০১৩ সালে এসে এই সংখ্যা কিছুটা কমে যায়। তখন বিশ্বের ২৩টি দেশে ৬৫টি পত্রিকা সংস্থা বিনামূল্যে বিতরণ করে। স্বাভাবিকভাবেই পত্রিকার সার্কুলেশনে সবচেয়ে এগিয়ে ব্রিটিশ ‘মেট্রো’। ডেইলি মেইলের এই সাময়িকি প্রতিদিন ৭০ লাখ কপি ছাপায়। এছাড়া সিটি এএমও বিনামূল্যে দিতে থাকে পত্রিকা। যুক্তরাজ্যেই বিনামূল্যে পত্রিকা পড়েন আড়াই কোটি মানুষ। বিশ্বের অন্যান্য দেশে পত্রিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয় ১ কোটি ৪০ লাখ পত্রিকা। সবমিলে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বিনামূল্যে ছাপানো পত্রিকা পড়ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় স্থানেই ‘ফ্রি’ পত্রিকা মেট্রো। তাদের আগে শুধুমাত্র ডেইলি সান। গার্ডিয়ানের দাবি, বাস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কারণেই মেট্রোর এত প্রসার। রবিবার সকালে লন্ডনের কোনও বাসে উঠলেও বিনামূল্যে ‘মেট্রো’ পত্রিকা পেয়ে যান সবাই। ‘দ্য রাইজ অব ফ্রি নিউজপেপার ইন লাতিন আমেরিকা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অনেক স্থানেই ছাপানো পত্রিকার সার্কুলেশন কমে গেলেও লাতিন আমেরিকায় তা বাড়ছে। আর বিগত কয়েক বছরে এই সংখ্যার বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে বিনামূল্যে পত্রিকা বিতরণ। লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে বিনামূ্ল্যে পত্রিকা দেওয়া হয়।২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে পাঠক সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩০ লাখ থেকে ২ কোটি ৭০ লাখ। আর এর অর্ধেকই হচ্ছে ‘ফ্রি নিউজপেপার।’ পাঁচ বছরে এই পত্রিকার সার্কুলেশন বেড়েছে ১৪০। |